উদ্বৃত্ত মূল্য ও প্রসংগ কথা

১৮৮৩ সালে এলিনূর মার্ক্সের পিতা কার্ল মার্কস যখন মারা গেলেন, তিনি তার পিতার রেখে যাওয়া অর্জন ও কর্ম সম্পর্কে একটি প্রবন্দ্ব রচনা করেছিলেন। তার লিখার মূল বিষয় বস্তু ছিল “ তাঁর মূল্যতত্ত্ব, যা মার্ক্স বর্ননা করেছিলেন এই ভাবে যে, সমাজের একটি সুবিধাভোগী শ্রেনী ক্রমাগত ভাবে মুনাফা পুঞ্জিভূত করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে”। (১) যারা এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষন করেন তারা নিজেদেরকে “মার্ক্সবাদী” বলে পরিচয় দেন। সেই ধারা বিগত শতাব্দির মত এখন ও সমভাবে চলে এসেছে। সেই কথিত মার্ক্সবাদিগন মার্ক্সের সত্যিকার তত্ত্ব ভূলে বসে আছেন, কারন সত্যিকার অর্থে বা আক্ষরিক ভাবেই পরিস্থিতি পাল্টে গেছে, তা থেকে প্রথম বিশ্বের শ্রমিকগন বাদ পড়ে গেছেন। তাদেরকে এখন আর সর্বহারা বলা সমিচীন নয়, তারা এখন আর বিপ্লবী শ্রেনীর মধ্যে ও পড়েন না । বৈজ্ঞানিক তত্ত্বানুসারে তারা ও এখন শোষকের স্থান দখল করে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়েছে। মার্ক্সের এই তত্ত্ব কত টুকু সঠিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিস্টিত – তা এখন প্রশ্নের মুখোমূখি হয়েছে। তবে, মার্ক্সের তত্ত্বের সত্যিকার ভাষ্যে তা যথাযথ ভাবেই বিদ্যমান আছে। তা যতেস্ট বিজ্ঞান ভিত্তিক ও বটে। সমস্যা হলো কতিপয় “মার্ক্সবাদি” প্রথম বিশ্ববাদকে মার্ক্সবাদের নামে সামনে নিয়ে আসেন। মার্ক্সবাদ আমাদেরকে কোন ভাবে সপিং মল অর্থনীতি তৈরী করার কলা কৌশল বাতলে দেয় না। এটা তা অনুমোদন ও করে না । ইহা আমাদেরকে শোষণ ও বিপ্লব সম্পর্কে ধিক্ষা দিয়ে থাকে। শোষক ও শোষিতের অবস্থা বুঝতে সহায়তা করে।

এলিনূর মার্ক্স পুজিবাদের আওতায় মূল্য তত্ত্বের বর্ননা করেন এই ভাবেঃ

“ যে অংকের টাকা গুলো পুজিপতিদের পকেটে চালান হয় তাকে মার্ক্স অতিরিক্ত মূল্য হিসাবে অবিহিত করেছেন। এর সবটাই কিন্তু তাঁর নিজস্ব মুনাফা নয়, এখানে নিয়োজিত সকলের মুনাফাকে সম্পৃক্ত করে থাকে। তাঁর উচিৎ হলো এই মুনাফা গুলি সকলের মাঝে বন্ঠন করাঃ সরকারের কর, ভ্যাট, জমি মালিকের ভাড়া ও দালাল সহ অন্যান্যদেরকে অংশীদারী করা। যদি ও সমাজের সকলেই সম ভাবে সম্পদ উৎপাদনে ভূমিকা পালন করে না । অথচ সকল শ্রেনীর মানুষ, প্রশাসক, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ, গানের মাস্টার সহ সকলেই স্ব স্ব স্থানে থেকে নিজেদের অধিকার ভোগ করে থাকেন। অন্য ভাবে বললে, বিষয়টি দাঁড়ায় এমন যে, তারা উৎপাদন কারীদের শ্রম ও ঘামের উপর বেঁচে থাকেন। অর্থাৎ পুজিপতিগন যা শোষণ করে তা থেকে তারা ভাগ পায়। অথচ তারা কোন প্রকার শ্রম মূল্য প্রদান করেন না । আসল কথা হলো, অতিরিক্ত শ্রম কিন্তু সমাজের সকলের সকল সদস্যদের উপর বর্তায় না। পার্লামেন্টের আইনের আওতায় তারা সরকারী রাজস্ব ভোগ করে থাকেন। অথবা তারা এমন কিছু কাজ করেন যার বদলে তারা তা অর্জন করেন, যদি ও সেই সকল কাজ আসলে উতপাদনশীল নয়। তাদের জন্য তেমন কোন তহবীল ও নেই যা থেকে তাদেরকে কিছু দেয়া যায়। সত্যিকার কথা হলো – উৎপাদন কারীরাই অতিরিক্ত মূল্যের সৃজনকারী। অথচ তারা সর্বদা বঞ্চিতই থেকে যান”। (২)

কার্ল মার্কস ও এলিনূর মার্কসের মতানূসারে, যে মূল্যটি সমাজে পরিচালিকা শক্তি তাঁর এক মাত্র উৎস হলো, “সরাসরি সম্পদ উৎপাদন কারীদল”। এলিনূর মার্কসের সময় কালে ইংল্যান্ডে বেশীর ভাগ শ্রমিক ছিলেন শিল্প শ্রমিক, যারা ছিলেন মজুরী দাস – তারা সরাসরি শ্রম দিয়ে কারখানায় ও খামারে উৎপাদন করতেন। দৃশ্যত তারা ছিলেন সেই সময়কার শ্রমজীবী মানুষ। মার্কস আগাম বার্তা দিয়ে বলেছিলেন যে এই পরিস্থিতি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে। তিনি মনে করতেন যে, সারা দুনিয়া দুটি বৃহৎ শ্রেনীতে বিভক্ত হয়ে যাবে। যাকে সহজেই বুঝা যাবে পুঁজিপতি ও শ্রমিক হিসাবে। এই ভাবে পুঁজিবাদ বিকশিত হবে, এই প্রক্রিয়ার কারনেই উৎপাদন কারী শিল্প শ্রমিকদের শ্রেনীর প্রাধান্য স্পস্ট হয়ে উঠবে। তিনি সেই পরিস্থিতিতে শিল্প শ্রমিকদেরকে সর্বহারা হিসাবে, বিপ্লবী শক্তি হিসাবে বিবেচনা করেছেন। মার্কস চিন্তা করেছিলেন উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি দেশের সাথে অন্য আর একটি দেশের প্রতিযোগীতা শুরু হবে। তাই তিনি শ্লোগান তুলেছিলেন, “ দুনিয়ার মজদুর, এক হও !” কিন্তু মার্কস যে ভাবে ভেবে ছিলেন দুনিয়া সেই ভাবে এগিয়ে যায়নি। অর্থাৎ মার্কসের চক অনুসারে বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরী হয়নি।

একটি বিষয় আমাদেরকে গুরুত্ব সহকারে বুঝতে হবে যে মার্কসের অনেক সিদ্বান্ত ছিলো ধারনাগত বিষয় হিসাবে তা বাস্তবত ছিলো না। যেমন আজও অনেক অর্থনীতিবিদ অনেক সিদ্বান্ত নেন যা বাস্তবের সাথে মিলে না । তবে ইহা আমাদেরকে নতুন নতুন পথ প্রদর্শন করে থাকে। যদি ও বাস্তব দুনিয়া অনেক ক্ষেত্রেই অনেক জটিল বিষয়। যেমন মার্ক্স যে ভাবে বিশ্ব সমাজের কথা চিন্তা করেছিলেন আজ তা কিন্তু নেই। বরং সমাজের চিত্র একটি ভিন্ন মাত্রায় এগিয়ে চলেছে। নানা দেশে নানা ভাবে বিকশিত হচ্ছে। কোন কোন দেশে উৎপাদন কারীর সংখ্যা খুবই কম। প্রথম বিশ্বে শপিংমল অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। প্রথম বিশ্বে এখন আর কারখানা কোন ভাবেই জনগনকে প্রভাবিত করে না । এখন প্রথম বিশ্বে স্বল্প সংখ্যক লোকই কারখানায় কাজ করেন। যত লোক কারখানায় কাজ করেন তার চেয়ে বহু বহু গুন মানুষ ব্যবস্থাপনা, সেবা ধর্মী কাজ ইত্যাদিতে নিয়োজিত রয়েছেন ।

মার্কসের ভাষায় জনসংখ্যার মধ্যে বিপুল হারে উৎপাদন কর্ম থেকে শ্রমিকগন কমে গেছে, যে শ্রম সামাজিক উতপাদনকে বৃদ্বি করে। প্রথম বিশ্বের সকল দেশসমূহেই এখন বিপনী বিতানের সমাহার ঘটে গেছে। বিপনী বিতানে মূলত কিছুই উৎপাদন হয়না । এখন সেই বিতান গুলোতে শ্রমিকদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, ও দেখবাল করার ইত্যাদি কাজে । পন্যসামগ্রী প্রস্তুত হয় অন্য কোন খানে আর বিক্রি হয় বিপনি বিতানে। বিপনি বিতানে মালামাল আসে নানাহ জায়গা থেকে তা সেখানে প্রদর্শন ও বিক্রি করে। বিপনি বিতার দ্রব্যাদি উৎপাদনের জন্য প্রধানত তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহকে ব্যবহার করা হয়। এই প্রক্রিয়া সরাসরি উৎপাদনের বিষয়টি মিলিয়ে যায়, তার সাথে মিলিয়ে যায় বিপ্লবী চেতনের ইস্যূ গুলো, আর সেই জন্যই ফ্রেডারিক এঙ্গেলস ইংলিশ শ্রমিকদেরকে ‘বুর্জোয়াকরন’ হিসাবে বর্ননা দিয়ে ছিলেন কেননা সেই সময়ে ব্রিটিশরা ভারত সহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে পন্য উৎপাদন করে আমদানি করত। ইংলিশ শ্রমিকদের সম্পর্কে এঙ্গেলস বলেছিলেন, “ শ্রমিকরা উপনিবেশ সমূহ ও বিশ্ব বাজারের যে ফায়দা উঠছে তাতে ভাগ বসিয়েছে”। এমনকি মার্ক্স ও তাঁর সার্বজনীন উন্নয়ন ও সর্বহারা শ্রেনীর বর্ননায় সীমাবদ্বতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তাঁর মূল্যতত্ত্ব আজকের দুনিয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই অচল।

বিশ্ব অর্থনীতি একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিটি পন্যের একটি নির্ধারিত জায়গা আছে যেখানে তা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। এখন একটি পন্য চুড়ান্ত জায়গায় আসার আগেই বহু হাত বদল হয়ে যায়। ধরা যাক একটি পন্য ক নামক স্থানে উৎপাদন করা হলো। ইহা একটি ব্যবসায়ী গ্রুপ কিনে আরো একটি প্রতিস্টানের মাধ্যমে গ নামক বিক্রি করে দিলো। ইহা আবার একটি শপিং মলে বিক্রি করে দিল। যেখানে তা খুচরা ক্রেতাদের নিকট বিক্রি হবে। এই প্রক্রিয়াটি এই রূপঃ

ক > খ > গ

পন্যটি তার প্রতিটি স্তরেই হয়ত মুনাফার জন্ম দিয়েছে। ধরা যাক ইহা ক নামক কারখানা থেকে মুনাফা প্রদান করে বিক্রি হয়ে খ নামক ব্যবসায়ী গ্রুপে গেল সেই পন্য আবার মুনাফা করে গ নামক খুচরা দোকানে বিক্রি করে দিল। এখন খুচরা ব্যবসায়ী তা আবার মুনাফা অর্জন করে সাধারন ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দিল। অর্থাৎ প্রতিটি স্তরেই পন্যটি মুনাফা দিয়ে গেল। উদ্বৃত্ত মূল্য কেবল সরাসরি উৎপাদনেই সম্ভব। যদিও এখানে মুনাফা করেছেন ব্যবসায়ী গ্রুপ, বিপনন কারী দল কিন্তু এই মুনাফা উতপাদনকারীদের নিকট থেকে করা হয়নি। এতে মার্কসের ভাষ্য অনুসারে ব্যবসায়ীরা তাদের কেরানীদেরকে ঠকিয়ে মুনাফা পুঞ্জিভূত করার ঘটনা ও ঘটায়নিঃ

“ আমাদেরকে দেখতে হবে তাঁর মধ্যে কি কি বিষয় আছে । মজুরী শ্রমিককে সরাসরি নিয়োগ দেয় শিল্প মালিকগন যেখানে শিল্প পুজি ও ব্যবসায়ী পুঁজি বিনিয়ূগ করা হয়, এই ভাবে ব্যবসায়ী পুঁজি ও শিল্প পুঁজি মিশে থাকে। কিন্তু যখন একজন ব্যবসায়ী বিপননের দায়িত্ব নিয়ে পন্য সর্ব্রাহ করে তাঁর কোন মূল্যই থাকে না বা উদ্বৃত্ত মূল্য ও তাতে থাকে না.. । একেই ভাবে যখন একজন ব্যবসায়ী তাঁর কর্মচারী নিয়ূজিত করেন তারা তাতে কোন প্রকার মূল্য বা উদ্বৃত্ত মূল্য সৃজন করে না.. আসল কথা হলো, তিনি কোন ভাবেই তাঁর কেরানী বা কর্মচারীদেরকে প্রতারনা করে সম্পদের পুঞ্জিভবন করেন না”। (৩)

মার্কস যখন এই সকল বিষয়ে কাজ করছিলেন তখন তাঁর সামনে অন্যত্র উৎপাদনের কোন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বা তাঁর তেমন কোন উদাহরন ও ছিলো না । এমন কি হয়ত তাঁর কাছে এই বিষয় গুলো পরিষ্কার ও ছিলো না, এবং অনেক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব ও ছিলো। তাই সাধারন ভাবে তিনি শ্রম মূল্যতত্ত্বের উপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

মার্কসীয় শ্রম তত্ত্ব অনুসারে, সরাসরি উৎপাদনই হলো মূল্যের আসল কথা এবং ইহাই হলো সকল মুনাফার মূল উৎস। এই ভাবে এলিনূর মার্কস ও ব্যাখ্যা করেন, তিনি বলেন সকল শ্রেনীর মানুষেরা সরাসরি উৎপাদন থেকেই মুনাফা পেয়ে থাকেন। প্রচলিত শ্রেনী গুলোর কাছে তা সত্যি না ও হতে পারে, যারা সরাসরি নিয়োজিত বা আংশিক ভাবে নিয়োজিত কোন সরাসরি উৎপাদনের সাথে। যারা সরাসরি উৎপাদনে নিয়োজিত তারা সেই সকল লোকদেরকে বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করতে পারেন। একটি ব্যাংক নিজে নিজেই মুনাফা অর্জন করতে পারে না । ইহা ও সরাসরি সামাজিক মোট উৎপাদন থেকেই মুনাফা অর্জন করে থাকে । একটি ব্যাংক যে মুনাফা অর্জন করে থাকে তা ও বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে এবং যার আসল উৎস হলো সরাসরি উৎপাদন । একই কথা খাটে কোন সুপার মার্কেটের ক্ষেত্রে। লেটুস পাতা থেকে সান্তার পুতুল পর্যন্ত যাই আছে তা তাদের দোকানে সবই হলো উৎপাদিত। তা এসেছে কোন কোন না কোন উৎপাদন থেকে । সেই উৎপাদন ই হলো মুনাফার আসল উৎস।

পুঁজিবাদের বিপুল পরিমান উৎপাদনের ক্ষমতা আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো অনুতপাদনশীল খাতের ব্যাপক বিকাশ ঘটিয়ে চলেছে। এই অনুতপাদনশীল খাতই প্রথম বিশ্বের জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখ যোগ্য ভুমিকা পালন করে চলেছে। উদাহরন হিসাবে আমরা উল মার্টের কথা বলতে পারি । মার্কিন মুল্লুকে ইহা সবচেয়ে বৃহৎ প্রতিস্টান যারা প্রায় ১ মিলিয়ন লোককে নিয়োজিত করেছে। (৪) আমেরিকায় মোট লোক সংখ্যা হলো ৩০৯ মিলিয়ন। ১৪৫ মিলিয়ন মানুষ দেশের ভেতরেই বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন ( হিসাবের বাহিরে আরো আছে) প্রায় ২৬ মিলিয়ন নিয়োজিত আছেন উৎপাদন শীলখাতে। (৫) তবে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো, তাদের মধ্যে অনেকেই সরাসরি উৎপাদনের সাথে জড়িত। আবার অনেকেই আছেন ব্যবস্থাপনার কাজে। ধারনা করা হয় যে আমেরিকায় ১০% থেকে ৩০% মানুষ মাত্র সরাসরি উৎপাদন করেন। আমারা সাধারন ভাবে বলতে পারি ২৩.৪ মিলিয়ন থেকে ১৮.২ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি উৎপাদনের সাথে জড়িত। পক্ষান্তরে, ১২৬.৮ মিলিয়ন থেকে ১২১.৬ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত নন। (৬) আর এই সকল কারনেই আমরা সহজেই বলতে পারি আমেরিকান অর্থনীতি হলো বিপনী বিতান কেন্দ্রীক অর্থনীতি। মার্কিন দেশে ২৩.৪ মিলিয়ন থেকে ১৮.২ মিলিয়ন মানুষ উৎপাদন শক্তি হিসাবে কাজ করেন। অথচ সেখানে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন মানুষ নানা কাজে জড়িত

আছেন। এছাড়া আরো দশ লক্ষ্য মানুষ যেমন পুঁজিপতি, পাতি বুর্জোয়া, বেকার, ছাত্র, অবসর প্রাপ্ত মানুষ ইত্যাদি যারা কোন প্রকার সরাসরি উৎপাদনের সাথে জড়িত নন। কিন্তু তাদের ভালো আয় আছে । তা হলে সেই মানুষেরা বিপণী বিতান কেন্দ্রিক অর্থ ব্যবস্থার বিরুদ্বে দাঁড়াবার কোন কারন নেই। আজ আমেরিকা একটি সাম্রাজ্যবাদী দেশ হয়েছে এটা কোন দুর্ঘটনা নয় বা অস্বাভাবিক ব্যাপার ও নয়। বাস্তবতাই তাদেরকে সেই জায়গায় দাড় করিয়ে দিয়েছে। একটি সাম্রাজ্যবাদী দেশ নিজেকে সেই ভাবে তৈরী করছে এবং তা বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের পর থেকেই সে তাঁর উৎপাদন কৌশল, সম্পদের সমাহার ও ক্ষমতার ভিত সেই ভাবে গড়ে তুলছে। সেই কারনেই লিন পিয়াং বলেছিলেন প্রথম বিশ্বে এখন আর বিপ্লব করার পরিস্থিতি নেই । তৃতীয় বিশ্বের বিপ্লব সাধন করার ভেতর দিয়েই সারা দুনিয়ায় বিপ্লবের সূচনা করতে হবে।

“ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের পর থেকেই উত্তর আমেরিকা সহ পশ্চিম ইউরূপের দেশ সমূহে সর্বহারার বিপ্লবের সম্ভাবনা কমে গেছে, তবে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিকায় এর উজ্জ্বল সম্ভাবনা এখন ও বিদ্যমান”। (৭) পুঁজিবাদের আওতায় সরাসরি উপার্জন কারীদের সম্পর্কে মার্কস যে ভাষ্য দিয়েছেন, তা প্রধানত শিল্প শ্রমিকদের বিষয়ে, যা তাদেরকে প্রায় মানবেতর বা মারাত্মক মানবেতর হিসাবে দেখানো হয়েছে। সেই পরিস্থিতির জন্য দায়ী হলো শিল্পপতিদের বাজার দখল ও প্রতিযোগীতার জন্য শ্রমিকদের মজুরী কমানোর বিষয় গুলো। মালিকদের প্রধান উদ্দেশ্যিই ছিলো মজুরী কমিয়ে বাজারে ঠিকে থাকা এবং নিজেদের আয় বৃদ্বি করা । তাই মার্কস চিন্তা করেছিলেন যে, শ্রমিকদেরকে নুন্যতম মজুরী দেয়া ছাড়া পুঁজিবাদের বিকাশ সম্ভব নয়। তাঁর মতে শিল্প মালিকেরা ততটুকুই দিবে যতটুকু দিলে একজন শ্রমিক কেবল পুন উৎপাদনের জন্য তৈরী থাকে। যদি ও তৃতীয় বিশ্বের ক্ষেত্রে বিষয়টি সামঞ্জস্য পুর্ন কিন্তু মার্কিন মুল্লুকে ও এই বিষয়টি কে দেখা যায় না । বন্দ্বিদেরকে যেমন জোড় করে উৎপাদনে বাধ্য করা হয় তা সেই রূপ নয়। প্রথম বিশ্বে যারা সরাসরি উৎপাদন করেন তারা কিন্তু তুলনা মূলক ভাবে বিশাল আয় করেন। মার্কস যেমন ভাবে বর্ননা করেছেন তা কিন্তু এর সাথে মিলবে না। এখানকার শ্রমিকেরা অনেক উন্নত জীবন যাপন করেন। তারা প্রচলিত ব্যবস্থার ভেতরে থেকেই সাম্রাজ্যবাদের উপকার ভূগী হিসাবে নানা প্রকার সূবিধা পেয়ে থাকেন । তাই তারা সাম্রাজ্যবাদের বন্দ্বু। মার্ক্সের ভাষ্য মতে সরাসরি উৎপাদনের মূল্য অন্যদেরকে ও দেয়া সম্ভব। পরিস্কার করে বললে বিষয়টি দাঁড়ায় যে, তৃতীয় বিশ্বের বাজার থেকেই প্রথম বিশ্ব তাঁর বিপুল মুনাফা তুলে নেয়। এমন কি যখন একজন প্রথম বিশ্বের শ্রমিক নিজ সরাসরি উৎপাদন করে তখন সাথে সাথে সে আবার বিশ্বের অন্যান্য দরিদ্র দেশের মানুষের মুনাফাকে ও একজন শোষকের মতই শোষণ করে থাকে । সেই ব্যাক্তি তৃতীয় বিশ্বের উৎপাদনে ও মুনাফায় ভাগ বসায়। সে তাঁর নিজের আয়ের সাথে অন্যের আয়ও আত্মস্থ করে নেয়। তাঁর মধ্যে ও চিহ্নিত শোষোকের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না ।

মার্কস এর মূল্যতত্ত্বে বলা হয়েছে বাস্তবতার আলোকে কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। প্রথম বিশ্ববাদিগন দাবী করেন যে, যদি কোন ব্যবসায়ে মুনাফা অর্জিত হলে , তাতে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা কোন ব্যাক্তিকে শোষণ করেনা। এই ক্ষেত্রে জ্ঞানতত্ত্বের সমস্যা তৈরী হয়ঃ আমরা কি ভাবে জানব যে একজন কর্মী শোষণ করেন কি না ? কেননা মূল্য নানা ভাবে এক জনের নিকট থেকে অন্য জনের নিকট স্থানান্তরিত হয়, একজন সরাসরি উৎপাদন কারী থেকে অন্য আরেক জন উৎপাদন কারীর নিকট কি ভাবে যায় এবং শোষণের পরিমাপ কিভাবে করা হবে তা নির্নয় করা একান্ত দরকার। এছাড়া শ্রম শক্তির পরিমান ও শোষণের মাত্রা পরিমাপ করা একান্ত দরকার। সামগ্রীক ভাবে বিশ্ব অর্থনীতি বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের সাথে মিশে আছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাঁর নিজের স্বার্থে অর্থনীতিকে বিনির্মান করেছে। একটি পন্য কোন স্থানে উৎপাদন করা হলে তা পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। একটি পন্য উৎপাদনের পর নানা স্থানে নানা ভাবে রূপান্তরিত হয়ে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রথম বিশ্বের শ্রম শক্তি ও তৃতীয় বিশ্বের শ্রম শক্তি কোন ভাবেই এক নয় । প্রথম বিশ্বের শ্রম শক্তি বিশ্ব মানের – তাদের কোন সমস্যা হলে তারা যে কোন স্থানে সহায়কের ভূমিকা রাখতে পারেন। কমরেড জনগণের সেবা করুন কথাটি বলা হয়েছিলো সমস্যার সমাধানের একটি পথ হিসাবে। ইহা ছিলো শ্রম শক্তির মূল্য তত্ত্বকে তুলে ধরার জন্যঃ

“ কমরেড মার্ক্স বলেছিলেন মূল্য হলো আসলে শ্রম শক্তির ই নির্যাস মাত্র। কোন পন্যের মূল্য নির্ধারিত হয় একটি পন্য তৈরী করার জন্য কত সময় ব্যয় হয় তাঁর উপর। অর্থাৎ কাজের প্রকৃতি অ পরিবেশের উপর ও পন্যের মূল্য ঠিক করা হয়। তাই বলতে হয় একটি পন্যের মূল্য নির্ধারন করা হয়, তা তৈরী করতে কত সময় লাগে তাঁর উপর। যেমন – ফসল তুলতে, প্রক্রিয়াজত করতে, প্যাকেজিং করতে বা ব্যবহার উপযোগী করতে।.২০০২ সালের হিসাবে বিশ্ব জিডিপির পরিমান হলো ৩১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যানটি বলে দেয় একটি বছরের হিসাব। সেই সময়ে বিশ্বের জন সংখ্যা ছিলো ৬.৪ বিলিয়ন । ধারনা করা হয় যে, শতকরা ২/৩ জন কর্মী মার্কিন কর্মসূচি অনুসারে প্রতি বছর ২০০০ ঘণ্টা ও কাজ করেছেন। তাই তাদের গড় মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ৭৫০০ ডলার, বা প্রতি ঘন্টায় ৩.৭৫ ডলার ।

এছাড়া আমি দেখেছি জাতি সংঘের ২০০৫ সালের একটি হিসাবে জিডিপি হলো ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার। যার মানে হলো প্রতিবছরের শ্রমের মূল্য দাঁড়ায় ৮৪০০ ডলার। বা প্রতি ঘন্টায় ৪.২০ ডলার। ইহার প্রভাব কি ? আমেরিকায় প্রতি ঘন্টায় নূন্যতম মজুরী হলো ৫.১৫ ডলার। কোন কোন প্রদেশে এর বেশী ও আয় করা যায়। যদি শ্রমের গড় মূল্য হয় ৪.২০ ডলার, কিন্তু তারা পেয়ে থাকেন ২৩% বেশী। আমেরিকায় গড়ে একজন শ্রমিক আয় করেন প্রতি ঘন্টায় ১৮ ডলার, যা তাদের প্রদত্ব শ্রমের চেয়ে পায় চার গুন বেশী”।(৮)

আসুন আমরা ভিন্ন রকমের কিছু সমাধানের পথ খুঁজি। এলিনূরের পিতা মার্ক্সের তত্ত্বানোসারে তিনি পুঁজিবাদের আওতায় বিশ্ব সামাজিক উৎপাদন ব্যবস্থায় বন্ঠন প্রক্রিয়ার বর্ননা করেছেন। তাঁর পিতার মতানুসারে, একটি বন্ঠন ব্যবস্থা হলো পুঁজিবাদী ধরনের, অন্যটি হলো সমাজতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। এলিনূর আরো বললেন যে, তাঁর সময়টা হলো পুঁজিবাদী সামাজিক অবস্থা। যেখানে অনেকেই কাজ না করে ও সকল কিছুতেই ভাগ পেয়ে থাকে। সত্যিকার অর্থে বেশীর ভাগ সামাজিক উৎপাদিত পন্যের মালিকানা ধারন করেন যারা তেমন কিছুই উৎপাদন করেন না । পজিবাদের ধর্ম ও তাই। তিনি পুঁজিবাদী বন্ঠন ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন এই ব্যবস্থার পরিবর্তে সমাজতান্ত্রিক বন্ঠন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন। যেখানে দরিদ্র মানুষেরা তাদের ন্যায় সঙ্গত পাওনা বুঝে নিতে পারবেন।

তৃতীয় বিশ্বের বস্তি গুলোতে উল্লেখ যোগ্য ভাবে বসবাস করে বেকার, দরিদ্র ও সর্বহারা শ্রেনীর মানুষ যাদের মধ্যে আছে পরিবর্তনের আকাংখা বা বিপ্লবী চেতনা। মার্ক্স বলেছিলেন, সত্যিকার উৎপাদন কারীদের মাঝে সম্পদের বন্ঠনের ব্যবস্থা করা জরুরী। তিনি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন তা না করা হলে সামাজিক ভাবে বিস্ফোরন ঘটবে। কিন্তু তা ঘটেনি আর সমাজতন্ত্র ও আসেনি। এর জন্য আমাদের মাঝে যে সমস্যা বিরাজিত তা হলো, এখন পন্যের মূল্য সরাসরি উৎপাদন কারী ও যারা উৎপাদন কারী নন তাদের মাঝে প্রতিনিয়ত স্থানান্তরিত হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের একটি মান নির্ধারন করা দরকার হলো যে, কে কে শোষক আর কারা শোষক নন। দরকার মত মার্ক্সীয় চিন্তা ভাবনার মূল্যায়ন বা পুন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সেই ক্ষেত্রে মার্ক্সবাদের সাম্রাজ্যবাদ সংক্রান্ত বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকারঃ

“ কেহ কেহ আপত্তি করতে পারেন যে, সমাজতান্ত্রিক বন্ঠন ব্যবস্থা সমতা ভিত্তিক নয়। বরং সমাজতান্ত্রে সম্পদ সম্প্রসারিত হয় কিন্তু তা সুসম হয় না। যে ব্যাক্তি কাজ করে বা যে জাতি কাজ করে কেবল তাদের জন্যঃ যারা কাজ করে না, তারা খেতে ও পারবেন না । অথচ শ্রম শক্তি তত্ত্ব ব্যাখ্যা করা দরকার । কারন শোষনের প্রক্রিয়াটি আমাদের বুঝা হবে। সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক সৃষ্ট শোষণ ব্যবস্থা যা এখন দেশে

দেশে চলছে । বৈশম্য এখন সর্বত্র । প্রচলিত বন্ঠন প্রক্রিয়ায় কোন দিন উন্ন্যনশীলতাকে উপস্থাপন করে না । এটা সত্য যে তৃতীয় বিশ্বের জন সংখ্যা হলো উন্নয়নশীলতার একটি উপাদান। এদের মধ্যে একটি বড় অংশের মানুষ অনুতপাদনশীল থেকে যাচ্ছে। ফলে সামগ্রীক ভাবে দারিদ্রতা থেকে তারা বেড়িয়ে আসতে পারেন না । তাদের দারিদ্র দূরী করনের জন্য বিশ্ব সমাজতন্ত্র কায়েম করা একান্ত দরকার। সকল তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে “ রিজার্ভ শিল্পসৈনিক” গড়তে হলে, উৎপাদন বাড়াতে হলে, সম্পদের সুস্টু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে তা সমাজতান্ত্রের আওতায় তা করতে হবে । জনসংখ্যা বিশারদদের মতে অল্প সময়ের মধ্যেই দুনিয়ার প্রায় সকল মানুষই নগর বাসী হিসাবে পরিগনিত হবেন। তারা গড়ে তুলবেন নানা স্থানে বস্তি অঞ্চল। এই নতুন বিশ্ব পল্লী গুলো হবে“গনযুদ্বের” মুল ভিত্তি। তৃতীয় বিশ্বের বিপ্লবী শক্তির উৎসই হবে এই সকল বস্তি। সেই বস্তি দেশে দেশে নৈরাজ্যের সৃজন করবে। এদেরকে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির বিশ্লেষনে দেখা যায় যে পন্যের মূল্য নানা ভাবে এক ব্যাক্তি থেকে অন্য ব্যাক্তিতে স্থানান্তরিত হয়। এতে দেখা যায় যে, যদি ব্যাক্তিদেরকে সমান হারে মূল্য গ্রহন করতে দেয়া হয়, তবে অন্য ব্যাক্তি বর্তমানের তুলনায় কম পাবেন। এক ব্যাক্তি যদি বেশী গ্রহন করেন তবে অন্য ব্যাক্তি কম পাবেন। সাম্রাজ্যবাদ এমন এক বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যেখানে প্রথম বিশ্ব পাবে বেশী আর তৃতীয় বিশ্ব পাবে কম। সাম্যবাদের ধারনায় দেখা যায় একজন যখন সম পরিমানের মূল্য গ্রহন করেন তখন ও তিনি শোষণের শিকার হচ্ছেন। একটি দেশকে যখন শোষণ করা হয় তখন ও আমরা দেখি তাঁর জনগণকে সম অধিকার দেয়া হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদ বলছে প্রতিটি দেশ পাশাপাশি সম অধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। কিন্তু বাস্তবে সে তাঁর সুবিধা সকলের চেয়ে বেশী আদায় করে নিচ্ছে। “(৯)(১০)

মার্কস কেবল ইতিসের অনিবার্য পরিনতির প্রতি দৃস্টি আকর্ষন করেছেন । যার ভিত্তি ছিলো তাঁর পরিবেশ ও পারিপার্ষিকতা। আমরা যদি মার্কসের মূল্য তত্ত্বকে বাদ ও দিতে চাই তাঁর পর ও প্রথম বিশ্ববাদিদের তুলনায় ইহা অনেক উত্তম পন্থা। আমাদের তা অনুসরন শরু করতে হলে এর সীমার ভেতর ও বাহিরকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মার্কসের মূল্য তত্ত্ব প্রসঙ্গে মাও শ্রেনীর প্রশ্ন টেনে এনেছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন “ আমাদের শ্ত্রুকে?” “আমাদের বন্দ্বু কে ?” বিশ্ব সমাজ এখন আর আগের মত বা মার্ক্সের সময়ের মত নেই। ভ, ই, লেনিন লিখে ছিলেন, “ সাম্রাজ্যবাদ শ্রমজীবী মানুষের মাঝে তাঁর একটি সুবিধাবাদি শ্রেনী তৈরী করে, তাঁর মাধ্যমে সমগ্র সর্বহারা শ্রেনীকে প্রভাবিত করে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করে থাকে”। (১১) আজ সমগ্র দুনিয়াই সে তাঁর দালাল চক্র গড়ে তুলেছে এবং বিপ্লবী শক্তিকে বিনাশ করে দিয়েছে। তাই বিশ্ব বিপ্লবের জন নানা দেশে নানা রূপ পরিগ্রহ করেছে। যা মার্ক্সের আমলে ভাবা ও যেত না । লিন পিয়াং লিখেছেন,

“ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিপ্লবের জন্য বিশ্ব পল্লী দিয়ে বিশ্ব নগর/শহর ঘেড়াও করতে হবে। চুড়ান্ত বিচারে বিপ্লবের বীজ বপন করতে হবে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাতিন আমেরিকায়। সেখানেই রয়েছে বিশ্বের বিপুল জন সংখ্যা ও বিপ্লবের সম্ভাবনা”। (১২)

আজকের বিপ্লবের ধরন ও প্রকৃতি মার্কসের সময়ের তুলনায় সম্পূর্ন ভিন্ন। ইহা রাশিয়ার বলষেভিক ও চিনের বিপ্লবের মত ও হবেনা । পরিবর্তন শীল বিশ্বে নয়া কর্ম কৌশল গ্রহন করতে হবে। আমাদের পথ হলো বিশ্ব জনযুদ্বের পথ। আর সেই পথে ধরে বিপ্লবের করতে এগিয়ে যাবে লিডিং লাইট।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s