ইরাকে পাচার বাংলাদেশিদের ওপর চলছে বর্বর নির্যাতন

ইরাকে পাচার বাংলাদেশিদের ওপর চলছে বর্বর নির্যাতন

[ স্বাধীন বাংলাদেশে মেহেনতী মানুষ বিদেশে কাজ করতে গিয়ে অন্যদের নিকট নির্যাতনের শিকার হবেন এটা মেনে নেয়া যায় না। যে দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানী হানাদার শক্তির মোকাবেলা করে দেশ স্বাধীন করেছে মর্যাদার সাথে বাঁচার জন্য। ইজ্জতের সাথে জীবন যাপনের জন্য। নিজের ও তাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর দেশ গড়ার জন্য । সেই দেশের মানুষ যখন কেবল ভাত কাপড় আর সন্তানের পড়া লিখার খরচের জন্য অন্য দেশে গিয়ে সেই দেশের মানুষের হাতে মার খায়, লাঞ্ছিত হয়, ইজ্জত নষ্ট হয় । তখন তার কাছে ৭১ এর কি মূল্য আছে ? স্বধীনতা তার নিকট কি অর্থ বহন করে ? তা হলে লাক্ষ শহীদ কেন প্রান দিলেন ? আজ যারা ই দেশের কর্তা হবেন তাদেরকে বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। আমাদের শ্রমিকদের জন্য মর্যাদা পূর্ন পরিবেশ গড়ে তুলার দায়িত্ব তো তাদের উপরই বর্তায়। আমেরিকা ও ইংল্যন্ডের কথা না ই বললাম । বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখন ও নানা দেশে তাদের শ্রম বিক্রি করতে গিয়ে যে ভাবে নাখাল হয়। ভারত কিংবা চীনের শ্রমিকদের সেই অবস্থার মুখোমুখী হতে হয় না । দেশের ভেতরে কাজের ক্ষেত্র ও পরিবেশ যেমন তৈরী করতে হবে তেমনি অন্য দেশে বাঙ্গালী শ্রমিক যেন মানুষের মত মানুষ হয়ে কাজ করতে পারেন । আয় উপার্জন করতে পারেন, তার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে কাজ করতেই হবে। বিদেশে যারা বাংলাদেশের দূত তারা ও যেন এটা মনে রাখেন যে তাদের বেতন বাংলাদেশের মানুষের করের টাকা থেকে দেয়া হয়। তাদের কাছে নিমক হালালের মত আচরন আমাদের সকলের প্রত্যাশা। দয়া করে যাদের নিমক খেয়ে বড় কর্তা হয়েছেন তাদের সাথে নিমক হারামী করবেন না। আমাদের শ্রমিক ভাই বোনদের জন্য সুরক্ষার ব্ব্যস্থা করুন । প্লিজ।]

‘সকাল, বিকাল ও রাতে পাইপ ও লোহার রড দিয়ে আমাদের পেটানো হতো। অনেকের ওপর যৌন নির্যাতনও চালানো হয়। কাউকেই ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না; দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেয়া হতো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে বহুতল ভবনের ওপর উঠে কাজ করানো হতো। ক্যারিয়ার ওভারসিস কোম্পানির লোক ছাড়াও ভাড়া করা ইরাকি সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালায়।’—সম্প্রতি ইরাক থেকে পালিয়ে দেশে এসে এভাবেই বাংলাদেশিদের ওপর বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. সিদ্দিক।
গতকাল শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিক জানান, শ্রম রপ্তানির নামে বাংলাদেশের কতিপয় রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে মানুষ কেনাবেচার হাটে বাংলাদেশিদের বিক্রি করছে। দাস হিসাবে বাংলাদেশিদের কিনে ইরাকিরা চালাচ্ছে নারকীয় নির্যাতন।
রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যারিয়ার ওভারসিস কনসালটেন্ট লিমিটেড গত বছরের ২২ মে এই ১৮০ জন বাংলাদেশিকে ইরাকে নিয়ে যায়। বন্দীদশা থেকে পালিয়ে ইরাকে স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহায়তায় গত ৪ এপ্রিল দেশে ফিরে আসেন ইঞ্জিনিয়ার মো. সিদ্দিক।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে ক্যারিয়ার ওভারসিস কোম্পানি বিদেশে মানব পাচার করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যেখানে কাজের কোনো সুযোগ নেই, যে দেশটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত এবং যেখানে বিদেশিদের জীবনের নিরাপত্তা প্রশ্নের সম্মুখীন সেই দেশে মানুষ পাঠানোর নির্দেশনা কীভাবে ক্যারিয়ারকে দেয়া হলো?
সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য চুক্তি করেছিল ক্যারিয়ার। কিন্তু কোনো কিছু বুঝতে না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করে আমাদের ইরাকে নিয়ে যায়। ক্যারিয়ারের এই অবৈধ কাজে সহযোগিতা করেছে ইরাকস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধানসহ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। তিনি আরও জানান, ইরাকে পাচারের শিকার ১৮০ জনের মধ্যে তিনিই পালিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন। আরও ১১ জন পালালেও তারা দেশে আসেনি। আর বাকিরা এখনও ইরাকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিক মানব পাচারের দায়ে ক্যারিয়ার ওভারসিস কনসালটেন্ট লিমিটেড এবং তাদের সহযোগীদের শাস্তি, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। একই সাথে যারা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক তাদের সতর্কতার সাথে এগোনোরও পরামর্শ দেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে সিদ্দিকের ভাই মো. জাভেদ এবং মানবাধিকার কর্মী সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2015/04/12/209801#sthash.1nmNvO0b.dpuf

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s