পুজিবাদের চেয়ে সামাজতন্ত্রই উত্তম ……

আজ এক বিলিয়ন মানুষ অনাহারে…পুজিবাদের চেয়ে সামাজতন্ত্রই উত্তম !

জাতিসঙ্গের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, বিশ্ব অর্থনীতির টানাপুরনে দরিদ্র মানুষ গুলোই বেশী দুঃখ দুর্দশার শিকার হচ্ছেন। অর্থণীতির টানাপুরনে তাঁর অনুসংগ হিসাবে যুদ্ব, খরা, রাজনৈতিক অনিশ্চিয়তা, খাদ্য দ্রব্যের উচ্চ মূল্য ইত্যাদি দেখা দেয়। এখন জাতিসঙ্গের ফাও এর তথ্য মতে, পৃথিবীর প্রায় ১ বিলিয়ন মানুষ খাদ্য সংকটে নিপতিত। অর্থাৎ প্রতি ৬ জনে ১ জন মানুষ অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করেন।

গত বছরের তথ্যানুসারে, প্রতিদিন ১০০ মিলিয়নের ও বেশী মানুষ ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে ঘুমুতে যায় ।ক্ষুধার্থ মানুষের সুংখ্যা বৃদ্বি পেয়ে ১১% এ উন্নিত হয়েছে। জাতিসঙ্গের প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান বিশ্বের ক্ষুধার্থ মানুষের সংখ্যা ১.০২ বিলিয়নে উন্নিত হয়েছে। আরো বলা হয়েছে- এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্বি পাচ্ছে। পৃথিবীতে লোক সংখ্যার চাইতে ক্ষুধার্থ মানুষের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বৃদ্বি পাচ্ছে।

এশিয়া এবং প্যাসিফিক এলাকায় সবচেয়ে বেশী ক্ষুধার্থ মানুষের বসবাস। এই সংখ্যা হলো ৬৪২ মিলিয়ন। সাব সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে এর সংখ্যা হলো ২৬৫ মিলিয়ন। উন্নয়নশীল দেশ গুলোতে এর সংখ্যা হোল ১৫ মিলিয়ন মানুষ। মুলত বিশাল সংখ্যক অনাহারী মানুষ বসবাস করে তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহে। এই পরিসংখ্যান আমাদের সামনে আবার পরিস্কার করে দেয় যে, সাম্রাজ্যবাদ কেমন করে তৃতীয় বিশ্বের দেশের জনগণের জীবনকে দুর্বিসহ করে দিয়েছে। তাঁদের জীবনকে চরম দরিদ্র ও বৈষম্য মূলক করে দিয়েছে। ইহা আমাদেরকে আরো দেখায় যে, সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে দুর্দশায় ফেলে প্রথম বিশ্বের মানুষের জীবনকে সমৃদ্বি দান করেছে।

জাতি সংঘ ও ফাও ক্ষুধার সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেছে, প্রতিদিন যারা ১৮০০ শত ক্যালোরির কম গ্রহন করেন তাঁরাই ক্ষুধার্থ। এই পরিমান খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে একজন মানুষ তাঁর শরীরের ওজন সঠিক রাখতে পারেন না।

জাতিসঙ্গের কর্মকর্তারা ১ বিলিয়ন ক্ষুধার্থ মানুষের বিষয়ে সত্যি চিন্তিত, কেননা তাঁরা মনে করেন এই পরিস্থিতি মানব সমাজে একটি বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। যস্টি শাহরীন, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতিনিধি যা রুমস্থিত জাতিসঙ্গের একটি সংস্থা তাঁদের ভাষ্য মতে, ক্ষুধার্থ মানুষের দ্বারা বিগত বছরে প্রায় ৩০টি দেশে খাদ্য নিয়ে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই খাদ্য দাঙ্গার কারনে হাইতিতে সে দেশের প্রধান মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ফাও এর তথ্য মতে, ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য ২৪ % বৃদ্বি পেয়েছে। শাহরীন বলেন, “ একটি ক্ষুধার্থ বিশ্ব একটি বিপদজনক বিশ্ব”। যাদের খাদ্য থাকেনা তাঁদের সামনে কেবল তিনটি করনীয় থাকে। “ লড়াই করা, দেশ ত্যাগ করা বা মরে যাওয়া”। এর একটি ও আমাদের কাছে গ্রহন যোগ্য নয়। -সামাজতান্ত্রিক বিপ্লব সাধন করাই এক মাত্র পথ। “নেহি ভাগো দুনিয়াকো বদলাও”।
যারা মনে করেন যে পুঁজিবাদের ইতিহাসে অনেক ভালো ভালো উদাহরন আছে – তাঁদের সমীপে আবেদন হলো সমাজতন্ত্রকে ভালো ভাবে জানুন। পুঁজিবাদ কখনও মানুষের অনাহার দূরকরার জন্য আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসেনি। বরং তাঁরা বিশ্বময় এমন এক ব্যবস্থা তৈরী করেছে যার ফলে উন্নত দেশ সমূহের খাদ্যের অভাব বিদূরীত হয়েছে কিন্তু বিশ্বের সংখ্যা গরিস্ট দরিদ্র দেশের মানুষেরা এখন ও খাদ্য সঙ্কঠের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে আছে। বিশ্ব পুঁজিবাদের আওতায় এখন ও প্রতিদিন ১ বিলিয়ন মানুষ আনাহারে থাকেন। তাঁদের বেশীর ভাগ ই বাস করেন তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে। সমাজতান্ত্রিক সমাজের অভিজ্ঞতা বলে যে, তাঁরা প্রথমেই সামাজিক নিপিড়ন নির্মূল করে, খাদ্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহন করেন, কেহ ই না খেয়ে থাকবেনা এই নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে । চিনে মাওসেতুং ক্ষমতায় আসার আগে সাধারণ মানুষ ক্ষুধার ভয়ে আতঙ্কিত থাকত। দুর্ভিক্ষ ছিল চিনের নিত্যদিনকার বিষয়। যখন সমাজতন্ত্র এলো চিনে নাগরিকদের চাহিদা মোতাবেক খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিল। সেখানে জমির মালিকের চাহিদা নয় বরং দেশের জনগণের চাহিদার আলোকে খাদ্য উৎপাদন শুরু হলো। তাঁরা দ্রুত খাদ্য সংকট থেকে বেড়িয়ে আসলেন। মাও ক্ষমতায় থাকা কালিন সময়ে কেবল মাত্র একবার অস্বাভাবিক আবহাওয়ার জন্য দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। অন্যতায় চিনে আজ অভাবনীয় ভাবে খদ্য সংকট বিদূরিত হয়েছে। নাগরিকদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ ছাড়াই চীন তাঁর খদ্য সমস্যার সমাধান করেছে। আজ অতি দুঃখের সাথে বলতে হয়, চীন যত পুঁজিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন ভাবে তত তিব্র ভাবে দেখা দিচ্ছে। চিনের বিপ্লব পরর্বর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা বলে যে, মানুষ সুযোগ পেলে তাঁদের সকলের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনে সম্পুর্ন সক্ষম। পুজিবাদ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সামাজিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে ব্যক্তি মালিকানায় রূপান্তরিত করার কারনে –বিশ্ব ব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বাঁধাগ্রস্থ হয় । তাই বলা যায় – সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য পুজিবাদী ব্যবস্থা নয় বরং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করা অতিব জরুরী।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s