ভারতীয় কৃষকের আত্মহত্যা….. ‘নিহি ভাগো দুনিয়াকু বদলাও’ !

ভারতের মহারাষ্ট্র,অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালা রাজ্যে তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে ৭৭৮ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এ নিয়ে ১৯৯৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় দুই লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে গড়ে প্রতি বছর ১৪ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেন।

কীটনাশকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি,ঋণের চাপ তথা দারিদ্রের কারণেই এদের বেশির ভাগ আত্মহত্যা করেন বলে দেশটির স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে।চলতি বছরের অক্টোবরের পর থেকে মহারাষ্ট্রে ৬৮০ জন এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ও কেরালাতে ৯৮ জন কৃষক নির্মম এ পথ বেছে নিয়েছে।

ভারতের মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সত্য হলে দরিদ্র কৃষকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হবে। ভারতের দরিদ্র কৃষকদেরকে কৃষি সরঞ্জাম কেনার জন্য ঋণ নিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে ঋণদাতারা নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। এ কারণে অনেক কৃষক তার বাস্তুভিটা পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হন। কেউ কেউ আবার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির চাপে আত্মহত্যা করেন।মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদের হারে ঋণ নিয়েও অনেকে সর্বশান্ত হন।

এখন সময় এসেছে একথা ভাবার যে, কৃষক আত্মহত্যা করবেন কেন? তারা শোষণ নিপিড়ন ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্বে রুখে দাড়াবেন। প্রচলিত ব্যবস্থার বদল করে সেখানে সত্যিকার সম বন্ঠনের ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। ভেবে দেখুন ইশ্বর আপনাকে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়েছেন। চার পাশে কত সম্পদ দিয়েছেন। যারা আপনাকে ন্যায় সঙ্গত অধিকার ও সুবিধা থেকে বঞ্ছিত করতে চায় তাদেরকে উচ্চেদ করুন। মারা যাবেন না । আত্মহত্যা করবেন না । প্রতিরোধ গড়ে তুলুন । যে রাজনীতি আপনাকে শোষণ করে। যা মজানদের পক্ষে কাজ করে তাদেরকে ঝেটিয়ে বিদায় করুন।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিওয়ারি জানান, ‘মৃত কৃষকেরা সবাই লোকসভা এবং জাতীয় নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। কারণ তারা ভেবেছিল তাদের অবস্থার উন্নতি হবে। আমাদের সমিতি থেকে অবস্থান উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তাদের সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো ঋণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উর্ধ্বগতি।’
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ আশা করছেন। টানা দুইবছর বৃষ্টি না হওয়ায় মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি হুমকির মুখে, এই অবস্থায় সরকারি সহায়তা ছাড়া এই অঞ্চলের কৃষকদের অবস্থা উন্নয়নের কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও স্থানীয়রা জানায়।

ভারতের জাতীয় অপরাধ পরিসংখ্যান বিভাগ মতে, গত বছর মহারাষ্ট্রে তিন হাজার ১৪৬ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছে। দেশটির অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই রাজ্যে কৃষকদের আত্মহত্যার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেশি।

আগেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে এখন ও হচ্ছে আগামিতে ও হবে । আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীকে গড়ে তুলব। ভূয়া রাজনীতির পরিবর্তে সত্যিকার গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলব। আমরা বিপ্লবের পথে এগোবো। জনগণ হবেন সেই বিপ্লবের নেতা । তাই বলছি ” নিহি ভাগো দুনিয়া কু বদলাও”!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s