কংস…

কংস দুষ্ট প্রকৃতির প্রজাপীরনকারী ভোজবংশীয় রাজা ছিলেন। তিনি মথুরারাজ উগ্রসেনের স্ত্রী পদ্মাবতী আর রাক্ষস দ্রুমিলের অবৈধ সহবাসের ফলে জন্মগ্রহণ করেন।মহারাজ উগ্রসেনের অজ্ঞাতে তার পরমাসুন্দরী স্ত্রী মহারাণী পদ্মাবতী সাথে রাক্ষসরাজ দ্রুমিল উগ্রসেনের ছদ্মবেশে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। রানী পদ্মাবতী তাকে নিজের স্বামী ভেবে আপত্তি করলেন না। দ্রুমিল তার শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। তাকে নিজের কলে বসিয়ে তাকে চুম্বন করলেন আর তার স্তনদ্বয় পেশন করলেন।তারপর তাকে শয্যায় শুইয়ে দিয়ে তাকে বিবস্ত্র করলেন। তারপর তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে তার সাথে রতিক্রীড়ায় মত্ত হলেন। তার শিশ্ন প্রবেশ করালো পদ্মাবতীর গোপনাঙ্গে। পুলক্সুখে মত্ত হয়ে সে আত্মপ্রকাশ করল। তাকে চিনেও পদ্মাবতী কিছু বললেন না। রাক্ষশ বীর্যপাত করল। তার ফলে অন্তঃসত্ত্বা হলেন রানী। গরভাবস্থার শেষে জন্ম দিলেন এক পুত্রসন্তানের। নাম দেন কংস। রাক্ষসের ঔরসে জন্ম বলেই তিনি রাক্ষসস্বভাব প্রাপ্ত হলেন। তিনি মগধের রাজা জরাসন্ধের দুই কন্যা অস্তি ও প্রাপ্তিকে বিবাহ করেন। তিনি জরাসন্ধের সহায়তায় বৃদ্ধ পিতা রাজা উগ্রসেনকে বন্দি করে মথুরার রাজা হন। এসময় কংসের বোন দেবকীর সঙ্গে বসুদেবের বিবাহ হয়। বিবাহে উপস্থিত থাকা কালে তিনি দৈববাণী শুনতে পান যে দেবকীর অষ্টম সন্তান তাকে বধ করবে। তাই তিনি দেবকী ও বাসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন। কারাগারে এঁদের পর পর ছয়টি সন্তান হয়, তাদের সকলকে কংস হত্যা করেন। সপ্তম সন্তান শ্রীবলরাম দেবকীর গর্ভ থেকে প্রতিস্থাপিত হন গোকুলবাসী বসুদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রোহিণীদেবীর গর্ভে। সেখানেই ভাদ্রমাসের পূর্ণিমায় তাঁর জন্ম হয়। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে মধ্যরাতে কৃষ্ণ নামে অষ্টম পুত্রের জন্ম হয়। বংশ রক্ষার জন্য বসুদেব তক্ষুনি কৃষ্ণকে গোকুলে গোপরাজ নন্দের ঘরে গোপনে রেখে দেন। সেই রাতেই নন্দের স্ত্রী যশোদার কন্যা যোগমায়ারূপে জন্মগ্রহণ করেন দেবী মহাশক্তি। বসুদেব কৃষ্ণকে যশোদার ঘরে রেখে সদ্যোজাত কন্যা যোগ্মায়াকে নিয়ে মথুরায় প্রত্যাবর্তন করেন। কংস তখন যোগমায়াকে পাথরে নিক্ষেপ করে হত্যা করতে আদেশ দেন, কিন্তু যোগমায়া নিক্ষিপ্ত অবস্থায় আকাশে উঠে গিয়ে বলেন, তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে।

কংস কৃষ্ণকে অনুসন্ধান করে হত্যা করার অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু সব ব্যর্থ হয়ে যায়। এর পর কংস যজ্ঞ করে কৌশলে কৃষ্ণকে মথুরায় আনয়ন করেন। এই অনুষ্ঠানে কংসের মল্লযোদ্ধারা কৃষ্ণের হাতে নিহত হয়। এতে কংস অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে দুই ভাই কৃষ্ণ ও বলরামকে নির্বাশনে পাথাবার আদেশ দেন। এছাড়া তিনি নন্দকে বন্দি এবং উগ্রসেন ও বসুদেবকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ কংসকে আক্রমণ করেন এবং সিংহাসন থেকে ছূঁড়ে মেরে হত্যা করেন। কংসের আট ভাই বাধা দিলে বলরাম তাদের হত্যা করেন। পরে কৃষ্ণ মাতামহ উগ্রসেনকে সিংহাসনে বসিয়ে মথুরায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s