মাওবাদিদের বিরুদ্বে কথা বলতে বাধ্য হলেন কেন ?

মাওবাদিরা প্রায়স বলেন যে, চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা ছিলো। এখন আমি সেই বিষয় নিয়ে পড়া শুনা করতে শুরু করেছি, আমি দেখছি গোড়ামীবাদি মাওবাদিরা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পর্কে তেমন কিছু জানেনই না। আপনি হয়ত ভাববেন যদি তারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিশ্বাসী হয়ে থাকেন যে বিপ্লবী তত্ত্বের উচ্চতর স্থর হলো সাংস্কৃতিক বিপ্লব তা হলে তো এদের এই বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞান থাকার কথা । এখন আমি যে সকল বিষয় আবিস্কার করেছি তাতে দেখা যাচ্ছে যে, গোড়ামীবাদি মাওবাদিরা সেই ঘটনা বহুল সময় সম্পর্কে খুবই কম জ্ঞান রাখেন। এমন কি তারা সেই সময় সম্পর্কে কোন সাধারন প্রশ্নের ও জবাব দিতে পারেন না । যেমন, আমি কখন ও তাদের কাছ থেকে জানতে পারি নাই যে সাংস্কৃতিক বিপ্লবটা কেন ব্যার্থ হয়ে গেল। গোড়ামীবাদি কতিপয় মাওবাদি একটি ভাসাভাসা জবাব দিয়ে থাকেন যে, ১৯৭৬ সালে চার কু চক্রীর অভ্যত্থানের ফলে পুঁজিবাদ ফেরে এসেছে। আসলে এটা কোন উত্তরই হলো না । মাওবাদীদের মতে, ক্রুসচেভের প্রতিবিপ্লবের ফলে সৌভিয়েত ইউনিয়নে পুঁজিবাদ ফিরে আসে। যদি মাওবাদিরা দাবী করেন যে সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলো বিপ্লবের উচ্চতর স্তর তাহলে স্ট্যালিন আমলের শেষ প্রান্তে এসে যে চক্রান্ত করে পুঁজিবাদ কয়েম করা হয়েছিলো তা হলে চীনের মানুষ কেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে চিনে পুঁজিবাদ কয়েমের পথ আটকে দিতে ব্যার্থ হলো ? মাওবাদীদের মতে মাওবাদ ই হলো বিপ্লবী বিজ্ঞানে সব চেয়ে উচ্চতর স্তর, অথচ তারা কি তা দিয়ে প্রতিবিপ্লব ঠেকাতে পারলেন ? মাওবাদিরা যদি স্বীকার করেন যে চীনে প্রতিবিপ্লব হয়েছে। তবে তারা কেন মাওবাদি তত্ত্ব সাংস্কৃতিক বিপ্লব দিয়ে তা আটকে দিতে পারলেন না ? মাওবাদীদের লাল মহা মানব তত্ত্ব কে কোন জিনিস অকার্য কর করে দিলো ? যার মূল মন্ত্র হলো যে কোন বিপ্লব নির্ভর করে তার নেতার উপর। সেই লাল মহা মানবের উপর। মার্ক্সবাদ সর্বদাই মহা মানব তত্ত্বের সমালোচনা করে এসেছে। আবার যদি ও মাওবাদিরা তোতা পাখীর মত আওড়ায়, “ জনগণই হলো সত্যিকার নেতা, তারাই ইতিহাস রচনা করে থাকে”। কিন্তু বাসতবতা হলো চীনে পুঁজিবাদই সকলের চেয়ে বড় হয়ে নিজের অস্থিত্ব প্রমান করল। তাদেরকে তাদের জনগণ পুঁজিবাদের কাছ থেকে রক্ষা করতে পারে নি । সেই ক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন বারা বার ফিরে আসে যে , এমন কি ঘটলোঃ যা বিপ্লবকে ভেতর থেকে এমন ভাবে দূর্বল করে দিলো যে তা কোন ভাবেই “প্রতিবিপ্লব” কে ঠেকাতে পারলো না ? কি কি ব্যার্থতা ছিল যা এই প্রতিবিপ্লবের সূচনা করতে পারল ? সেই প্রতি বিপ্লবের ক্ষেত্রে ব্যাক্তিদের কার কি কি ভূমিকা ছিলো ? সত্যিকার ভাবে সেই পরিস্থিতে বস্তু তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বিরাট ঘটতি ছিলো। গোড়ামীবাদ তাদেরকে মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত করেছিলো। বন্দ্বুরা বলেই চলেছেন যে, প্রতিবিপ্লবের কারনেই চীনের মহান বিপ্লবী ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। এসব বলতে বলতে তাদের মাথার চুল উঠিয়ে ফেলেছেন। পরে আরো বলব… তুষার মির্জা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s