লিন পিয়াং ছিলেন সত্যিকারের একজন বিপ্লবী..

এটা আমার ব্যাক্তিগত অনুভুতি, আমার কাছে মনে হয়েছে লিন পিয়াং ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পর্কে জানার বিষয়ে গোঁড়ামি পন্থীদের মাঝে ব্যাপক ত্রুটি বিদ্যমান রয়েছে। একটি মজার বিষয়ে হলো যে, আমি যখন এই বিষয়ে লেখা পড়া করতে থাকি তখনই আমার নিকট বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রথম দিকেই দেখতে পাই যে, লিন সম্পর্কে অফিসিয়াল বক্তব্য ও চীনের গন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাঝে আমি ব্যাপক গড়মিল খোঁজে পাই। বেইজিং রিভিউর বক্তব্যে বলা হয়েছে, লিন পিয়াং রাজনৈতিক অপরাধের সাথে জড়িত। তিনি গোপনীয় ভাবে উৎপাদন শক্তি তত্ত্বের সমর্থক চক্রের সাথে কাজ করেছে, তিনি সৌভিয়েত কৌমিংতাং এর এজেন্ট ইত্যাদি । সত্যকার ভাবে মাওবাদি রাজনীতির উচ্চতর স্তরের ব্যাক্তি ছিলেন তিনি। তাকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাকে অত্যান্ত সমিহ করে বলা হত, “ মওয়ের সত্যিকার উত্তরাধিকার”, “মাওয়ের ভালো ছাত্র”, “ মাওয়ের সহযোদ্বা”, “চীনের মহান জেনারেল”, ইত্যাদি। জনগন প্রায়স বলতেন, “ চেয়ারম্যান মাও দির্ঘ জীবি হোন এবং লিন পিয়াং বেঁচে থাকুন”। ১৯৬৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টির নবম কংগ্রেসে মাও নিজেই লিখে দেন যে লিন পিয়াং হবেন তার উত্তরাধিকার। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রধান প্রধান বক্তব্য সমূহ লিন পিয়াং কর্তৃক লিখিত ছিলো। এমন কি তিনিই মাওয়ের পক্ষে বেশীর ভাগ বক্তব্য রেকর্ডিং করেন। তাই বলছি নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন তাহলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো ? মাওবাদিদের মধ্যে এমন কি পচন ধরেছিলো যে তারা তাদের ক্ষমতার সূরক্ষা দিতে পারেন নাই ? যদি এমন টি সত্য হয় যে, মাও লিন পিয়াং কে শত্রু মনে করতেন তা হলে তিনি কেন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সকল গুরুত্ব পূর্ন কাজ তাকে দিয়ে করাচ্ছিলেন? অবশ্য মাওবাদিরা লিনের পরবর্তী সময়ে এই ক্ষেত্রে নানা রহস্য সৃজনের চেষ্টা করেছেন।

মাওবাদীদের এই রকমের অসংলগ্ন বক্তব্য আমাকে লিন সম্পর্কে আরো বেশী জানতে আগ্রহী করে তোলে। আমি জানতে চাইলাম মাওবাদি প্রকল্প সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পর্কে যিনি এত নিবিড় ভাবে কাজ করছিলেন তিনি কেমন করে বিদ্রোহী, দালাল ও গোয়েন্দা হয়ে উঠলেন । কেমন করে মাওবাদের একজন নিবেদিত প্রান মানুষ জিনি মাওবাদের বিকাশে প্রতিনিয়ত কাজ করছিলেন তিনি কি ভাবে মাওবাদের শত্রুতে পরিনিত হলেন ? এ ছাড়া আমার আর কিছু জানার ছিল না । আমি এখন ও চীনের নেতৃত্ব, চলমান ঘটনা প্রবাহ, তাদের ব্যাক্তিগত ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করে যাচ্ছি। এখন সমাজতান্ত্রিক ইতিহাস বিশ্লেষণে একটি বড় সমস্যা হলো যে, চলমান বিষয় আসয় অনেক ক্ষেত্রেই অসত্য হিসাবে তোলে ধরা হচ্ছে। আমি দেখতে পাচ্ছি যে, লিন পিয়াং সম্পর্কে রাজনৈতিক শ্রুতি অনুসারে বর্ননা হাজির করা হয়েছে। লিন কে একজন অতি বাম নেতা হিসাবে দেখানো হয়েছে। আবার অতি ডান হিসাবে ও তাকে চিত্রিত করা চেষ্টা করা হয়েছে এর পর আবার তাকে অতিবাম হিসাবে দেখানো হয়েছে। আমি আরো দেখলাম যে লিনের সম্পর্কে ঐতিহাসিক সত্যতাকে একেবারে গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। আগের মত এখনো গোঁড়ামি পন্থী মাওবাদিরা কোন বিষয়ের সাধারন বর্ননা ও তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে ওয়াকিব হাল নন। তারা এর পার্থক্য ও বুঝেন না । কেহ যদি বলেন যে করিম ও রহিমের অপরাধ সেলিমের মতই তা সত্য না ও হতে পারে। একেই ভাবে তারা অন্যান্যদের মতই লিনপিয়াঙ্গকে দোষারূপ করে এসেছেন। আপনি দেখবেন মাওবাদিরা এখন তোতা পাখির মত শোনা কথা নিজেরা বার বার আওড়ে যাচ্ছেন। বেইজিং রিভিউ যা বলছে তারা ও তাই বলে যাচ্ছেন। তারা একে অন্যকে তাই বলে আনন্দ পাচ্ছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত হলে ও অত্যি যে এই ধরনের পুলিশি বক্তব্য বিপ্লবী ইতিহাসে বার বার দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে কাঊকে সত্যিকার বিজ্ঞানের কথা শোনানো বড়ই কঠিন ব্যাপার।

আমাকে আরো একটি বিষয় সাংঘাতিক ভাবে আলোড়িত করে যে, যে সকল গোঁড়ামি পন্থী মাওবাদি এই দাবী করেন যে সাংস্কৃতিক বিপ্লব হলো মানব ইতিহাসের একটি উচ্চরত স্থর, অথচ তারা সেই সম্পর্কে তেমন কিছুই বললেন না, তারা এর কোন বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করলেন না । তারা যা করলেন তা হোল বেইজিন ভিত্তিক রিভিউ যা প্রকাশ করল তারা তাই তোতা পাখীর মত আওড়াতে লাগলেন। এবং বিপ্লবের উদ্দেশ্যে ভ্রমন কারীদের কাছে সেই কথা গুলোই ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে থাকলেন। এক মিনিট ভেবে দেখুন । যারা বলেন সাংস্কৃতিক বিপ্লব দুনিয়ার শ্রেস্ট জিনিস, সর্ব মহান, খুবই গুরুত্ব পূর্ন বিষয় তা হলে তারা কেন সেই বিপ্লবকে ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছেন না । এমন কি তারা বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝার জন্য পড়া শোনা ও করতে আগ্রহী নয়। আমরা কি বুঝলাম এতে, গোঁড়ামি পন্থী মাওবাদিরা আসলে এর প্রতি কোন প্রকার আগ্রহ ই দেখান না, তারা বিজ্ঞানের প্রতি আস্থাশীল ও নয়। আসলে তারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা মূখে বলে কেবল বাহ বাহ কুড়াতে চায়। তারা বিজ্ঞানকে কোন প্রকার গুরুত্ব ও দিতে চায় না, তারা গোড়ামীকেই বেশী পছন্দ করেন। এই ধরনের মানুষেরা নিজেদেরকে বিপ্লবী বললেও আসলে উরা হূজ্জা ও ট্রটস্কি পন্থীদের মতই আচরন করেন। তারা বিজ্ঞানের কথা বললে ও তারা আদতে বিজ্ঞানকে অস্বীকারই করে থাকেন। তারা আদর্শিক ভাবে আসলে উপ দলীয় কোন্দলেই লিপ্ত কিন্তু আবার ঐক্যের কথা ও বলেন, আসলে তাদের কার্যক্রম মূলত কোন বিপ্লবী বিজ্ঞান ভিত্তিক দিক নির্দেশনা প্রদান করে না । লিডিং লাইটের সাথে এখানে তাদের পার্থক্য বিদ্যময়ান। লিডিং লাইট সাম্যবাদ আদতে একটি সত্যিকার বিজ্ঞান ভিত্তিক পথ নির্দেশোনা । যা নিপিড়িত মানুষের মুক্তির দিশা ।

আমরা আসলে লিন পিয়াং কে আমাদের একজন পথ নির্দেশক হিসাবে গ্রহন করেছি। গোঁড়ামি পন্থা ও অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির সাথে আমরা একেবারেই একমত পোষণ করি না । পুঁজিবাদী সংশোধন পন্থী ও গোঁড়ামি বাদিরা মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছেন। যারা বিজ্ঞান অনুসারে মাওবাদের চর্চা করেন না বা সত্যিকার মাওবাদকে মেনে চলেন না তাদেরকে মাওবাদি সংস্থা বা সংগঠন হিসাবে গ্রহন করা যায় না । মার্ক্সের একটি বিখ্যাত উক্তি হলো যে, তিনি মার্ক্সবাদি নন। এই ধরনের কথা মার্ক্স, লেনিন, মাওয়ের মতে বিজ্ঞানকে বিভ্রত করা, এই ধরনের বক্তব্য বিজ্ঞান সম্মত নয়। লিডিং লাইট বিজ্ঞান ভিত্তিক ও সহজ পথ। লিন পিয়াং এর কথায় বলা যায় স্পস্ট কর, পরিস্কার কর, একজন ব্যাক্তির নাম। এটা হলো প্রতিকি বিষয়। আর আমরা তা করতে গিয়ে আমরা বালির উপর একটি লাইন এঁকে দিলাম। আমরা যারা লিডিং লাইট আমরা বলছি যে, কোন প্রকার গোঁড়ামি পন্থা, অবৈজ্ঞানিক বিষয় গ্রহন যোগ্য নয়। অনেক হয়েছে। এবার সত্যিকার ভাবে জনগণের সেবা করুন। সত্যের সেবা করুন । মিথ্যার নয়। পরে আরো বলব… তুষার মির্জা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s