সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে আরো কিছু কথা …

সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে আরো কিছু কথা …

সমূদ্রে ঢেঊ উঠছে, আকাশে মেঘের ঘনঘটা। আমি আমার আমার লিখায় সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সেই ঢেউয়ের আবাস দিয়েছি। এই লিখায় সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উত্থান ও বিকাশ নিয়ে কথা বলেছি। এই সকল বিষয় সর্বদাই বুর্জোয়া ঐতিহাসিক গন এড়িয়ে গেছেন। এই বিষয় গুলো আপনি মাওবাদীদের সাহিত্যে ও পাবেন না ।

আমি সেই পুস্তকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দূর্ঘটনা অর্থাৎ কিছু দূর্ঘটনা ও ছিলো। আপনি প্রচলিত মাওবাদি ও অন্যান্য লিখকদের লিখায় দেখতে পাবেন, যে মাওসেতুং নিজেই সংশোধনবাদিদেরকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। মাওয়ের সেই ব্যবস্থার কারনে চার খলিফা ও অন্যান্যদের মাঝে সংঘাত দেখা দেয়। এই প্রসঙ্গে ইয়ু উয়েন তার রচনায় তাদের সংঘাতের বর্ননা করেছেন। এতে সাধারন মানুষ ও জড়িত হয়ে পড়েন। গতানুগতিক লিখকদের লিখায় পাবেন যে, মাও নিজেই কোন কোন ক্ষেত্রে সংঘাত কামনা করেছিলেন। যা সাম্যবাদিদেরকে ক্ষমতায় আনতে সহায্য করবে। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রারম্ভে কয়েক ডজন ক্ষেত্রে সংঘাতের অস্থিত্ব দেখা যায়। কিছু কিছু তরুন মাওবাদি লিখক বলেছেন, মহা উলম্ফন সংশোধন পন্থার লোকদের বিরুদ্বে যাচ্ছিলো। একটি মারাত্মক সঙ্ঘতা চলছিলো অর্থনৈতিক, দার্শনিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য, ও ব্যবহারিক আচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ইয়ু অয়েন ওয়া ফু হানের নাটকের সামালোচনা করেন। একেই ভাবে বিপ্লবীরা নিজেদের দলের ভেতরে ও সংশোধন করতে চাইছিলেন। তারা শিক্ষা, ও বুদ্বি বৃত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে যুগান্তকারি পরিবর্তন করতে চাইছিলেন। কিন্তু কেহ কেহ এর বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের একটি উল্লেখ যোগ্য দিক ছিলো সামাজতান্ত্রিক শিক্ষার প্রসার করা । যখন সেই পরিবর্তনের হাওয়া চার দিকে চড়িয়ে পড়ে তখনই ১৯৬৬ সালে ১৬ নম্বর সার্কুলার জারি করে তা থামিয়ে দেবার চেষ্টা করা হয়। এটা ছিলো সমাজতন্ত্রের বিরোধী শক্তির প্রচণ্ড আঘাত। তারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করে ফেলে।

আমার লিখায় আরো একটি দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই বিষয়টি হলো সাংস্কৃতিক বিপ্লবে লিন পিয়াংয়ের ভূমিকা, যিনি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ছিলেন। যখন চীনে শিক্ষার কার্যক্রমের বিপ্লব চলছিলো তখন তিনি তার সেনা বাহিনীকে সেই ভাবে গড়ে তুলতে পারছিলেন না । তাই তার সেনা বাহিনীতে সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা আন্দোলনের প্রভাব কম ছিলো। মাওবাদিদের সংখ্যা ও সেখানে ছিলো কম। তখন দলের ভেতরে সামরিক বাহিনী তেমন কোন ভূমিকা পালন করতে পারতেন না । তাই আমার লিখায় উন্নয়নকে সামনে আনা হয়েছে কিন্তু সাংস্কৃতিক বিপ্লব বা আদর্শকে তোলে ধরা হয়নি, কিন্তু প্রতিস্টানিক দ্বৈততাকে তুলে ধরার পাশাপাশি চলমান ঐতিহ্য ও আমলাতান্ত্রিকতাকে আলোচনা করা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে লিন পিয়াং এর অবদান কে তোলে ধরার প্রায়াস ছিলো। লিন সংশোধনবাদিদের মোকাবেলায় সেনাবাহিনীতে, রাষ্ট্রে ও পার্টিতে দ্বৈত ক্ষমতা কঠামোর উত্থান ঘটান। তিনি সেনাবাহিনীতে সংশোধনবাদ বিরোধী একটি ভিত্তি গড়ে তুলেন, তিনি একই সাথে পার্টিতে, রাষ্ট্রে মাওবাদের আদর্শিক ভিত্তি মজবুত করেন। সেনা বাহিনী থেকে নেতৃত্ব তৈরী হতে থাকে । যেমন জিয়াং কুইন। প্রতিটি প্রতিস্টানেই দুটি ক্ষমতা কাঠামো গড়ে উঠতে থাকে, ইহা লিন পিয়াংয়ের একটি বড় অবদান হিসাবে দেখা যায় যে তিনি ই এই ধারার সৃজন করেন। সেই পদক্ষেপ গুলো লিনকে তার নিজস্ব পরিসর থেকে সাধারন মানুষের সাথে মেশার সুযোগ করে দেয়। তিনি চাইছিলেন একটি নতুন ক্ষমতা কাঠামো, আকর্ষনীয় নেতৃত্ব, নতুন প্রাশাসক শ্রেনী, ও বিপ্লবী ব্যাক্তি স্বত্ত্বার বিকাশ । এই সকল বিষয়াবলী নিয়েই আমার লিখায় আলোচনা করা হয়েছে। যা এই পর্যন্ত যারা লিখেছেন যেমন- মাওবাদি, সংশোধনবাদী ও বুর্জোয়া বুদ্বিজীবী তারা কেহ ই এই সকল বিষয়ে বিস্তারিত লিখেন নি।

এখন পর্যন্ত আমি যে সকল বিষয়ে কাজ করেছি এর মধ্যে এই গুলো বেশ প্রাগ্রসর ইস্যূ। এই পর্যন্ত আমি যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি তা সুসংগঠিত ভাবে ১৯৭০ সালের পর থেকে বিস্তারিত আলকপাত করেছি। কৃষি, শিল্প ও আন্যান্য বিষয় তুলে ধরাই হলো আমার প্রধান উদ্দেশ্য। লিন পিয়াংয়ের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি বিষয়ে আমি কথা বলেছি । আরো বলব… তুষার মির্জা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s