রোজা…..

রোজা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনপাকে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের উপর রমজানে রোজা ফরজ করা হয়েছে, যা অতীতের উম্মতের উপরও ফরজ করা হয়েছিলো’। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রোজা তোমাদের জন্য সুরক্ষার ঢাল স্বরূপ’।

রোজা মানেই হল বিরত থাকা। অর্থাৎ সূর্য উদয় থেকে সূর্যাস্থ পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকা। ইহা কেবল মানুষের আধ্মাতিক শক্তিকে বিকশিত করে না তা মানুষের শারীরিক অবস্থারও নানা উপকার করে থাকে। তার কয়েকটি নিম্নে আলোচিত হলো:

রোজা শরীরের ওজন কমায়:
যাদের শরীরের ওজন ও মেদ অতিরিক্ত তাঁরা চায় সুস্থ্যতার জন্য ওজন কমিয়ে রাখতে, কিন্তু প্রচলিত নানা পন্থার চেয়ে রোজার মাধ্যমে ওজন কমানো অনেক নিরাপদ। রোজা মানব দেহের অতিরিক্ত চিনি, মেদ ও চর্বি অত্যন্ত কার্যকরী ভাবে কমিয়ে দেবে। ইদানিং অনেক অমুসলিম খেলোয়ারও তাদের শরীরের ফিটনেসের জন্য রোজা রেখে থাকেন।

রোজা শরীরের ইন্সোলিনের ভারসাম্য রক্ষা করে:
রোজা মানব দেহে ইতিবাচক ভাবে ইন্সোলিনের ভারসাম্যের সুরক্ষা দেয়। যদি শর্করা জাতীয় খাদ্য বেশী খাওয়া হয় তবে শরীরের চিনির পরিমান বেড়ে যায়। একটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, রোজা রাখার পর খাবার খেলে সুসম ভাবে রক্তে চিনির পরিমান বজায় থাকে।

রোজা শরীরের মেটাবলিজমের গতি বাড়ায়:
রোজা রাখার পর শরীরের হজমের কাজ অবসর পায়, এটা মানব দেহের মেটাবলিজম কার্যকরী ভাবে ক্যালরি পুড়িয়ে দেয়। যদি কারো হজম শক্তি কম থাকে যা শরীরের চর্বি বা ফ্যাট পুড়াতে অক্ষম হয়, তবে রোজা সেই অবস্থার উন্নতি ঘটায়। রোজা মানুষের হজম শক্তিকে বৃদ্ধি ও নিয়মিত করে থাকে।

রোজা মানুষের আয়ু বাড়ায়:
আপনি বিশ্বাস করুন আর না ই করুন, রোজা মানুষের আয়ু বাড়িয়ে দেয়। গবেষনায় দেখা গেছে রোজাদারের কর্ম ক্ষমতা বেশী। তাঁরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় অন্যদের চেয়ে বেশী। রোজাদার মানুষের মেটাবলিজম ধীর গতির হওয়ার কারনে শরীরের তারুণ্য বেশী দিন থাকে এবং মেটাবলিজম বেশী দিন কার্যকরী থাকে। যদি আপনি কম খান তবে আপনি বেশীদিন বাঁচবেন। আপনার হজম শক্তি ভালো থাকবে। এটা পরিক্ষীত।

রোজা ক্ষুধা বৃদ্ধি করে থাকে:
ভেবে দেখুন তো আপনি কি দিনে যে ৩/৪ বার খাদ্য গ্রহন করে থাকেন? তখন কি আপনার ক্ষিদে পায়? নিশ্চয়ই সকল সময় নয়। সত্যিকার ভাবে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য খাওয়ার চর্চা করতে চাইলে রোজার কোন বিকল্প নেই। এই চর্চা আমাদেরকে আমাদের দেহের হর্মোন জনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করবে।

রোজা আপনার খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন আনতে পারে:
অনেকেই আছেন নানা কারণে খাদ্যের প্রতি অনিহা পোষন করেন। জীবন যাত্রার ধরন ও কাজের ব্যস্ততা জনিত কারণে খাদ্য গ্রহনে নিয়মতান্ত্রিকতা অনুসরন করতে পারেন না। একজন রোজাদার পুরো একটি মাস রোজা রাখার মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাত্রার একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিকল্পনা তৈরীর সুযোগ পান। কোন প্রকার বদ অভ্যাস যেমন: ধুম পান, মাদক গ্রহন ইত্যাদি এই রমজানে ছেড়ে দিতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা থাকা চাই।

রোজা মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে দেয়:
অনেকে্র ভূল ধারনা আছে যে রোজা মানুষের চিন্তা শক্তি কমিয়ে দেয়। কিন্তু গবেষণা বলছে, না; রোজা মানুষের মস্তিষ্কের চিন্তা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেয়। ইটা মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরী করে, নার্ভাস ব্যবস্থাকে উন্নত করে। ফলে এলজাইমা এবং পার্কিন্সনের মত রোগ থেকে মানব দেহকে সুরক্ষা দেয়।

রোজা মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
রোজা মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। ইহা দেহাভ্যন্তরীণ কোন ক্ষত থাকলে তা ও কমিয়ে দেয়, শরীরে কোন প্রকার ক্যান্সার সেল থাকলে তাকে থামিয়ে দেয়, এবং নতুন ভাবে তৈরী হতে বাঁধা গ্রস্থ করে।

প্রকৃতিতে দেখা যায়, যখন কোন প্রাণীর অসূখ হয় তখনই তারা খাদ্য গ্রহন করা বন্ধ করে দেয় এবং অবসরে থাকতে প্ররোচিত করে। এর মানেই হলো প্রানীর দেহের অভ্যন্তরে সকল প্রকার চাপ কমিয়ে শরীরকে রোগের বিরুদ্বে লড়াই করতে সুযোগ করে দেয়া। আমরা মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা অসুস্থ হলেও খাদ্য গ্রহণে আরো বেশী জোর দেই। দরকার না থাকলেও খাবার গ্রহন করতে চাই।

রোজা মানুষের আত্মিক বিকাশ সাধন করে:
রোজা মানুষের মন ও মননকে তীক্ষ্ণ করে থাকে – পড়ালেখা, সাধনা, ইয়োগা, এবং নানা প্রকার শিল্প কর্ম ইত্যাদি। আমাদের শরীরে সবচেয়ে বেশী শক্তি খরচ করে থাকে পরিপাকতন্ত্র। যদি কেহ রোজা থাকে তখন সেই শক্তি অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই খালি পেটে যে কোন সাধনায় সুফল বেশী আসে।

খালি পেটে শারীরিক ও মানসিক চেতনার বেশী বিকাশ ঘটে। হালকা শরীরে মন পরিষ্কার থাকে যা আমাদের চারপাশের জিনিস সম্পর্কে অধিকতর সচেতন করে তুলে। রোজার মধ্যমে নিজেদেরকে অধিকতর আলোকিত করে তুলতে পারি।

রোজা আমাদের দেহকে পরিস্কার করে দেয়:
রোজার মাসে যখন সাময়িক ভাবে আমাদের হজম প্রক্রিয়ায় কোন শক্তি ব্যবহার করতে হয়না তখন সেই শক্তি আমাদের শরীরের অন্যান্য কাজে বেশী ব্যবহার হয়। যখন আমরা কিছুই খাইনা তখনই আমাদের শরীরের ভেতরের জমে থাকা দ্রব্যাদি ক্রমে বেড়িয়ে এসে দেহকে পরিস্কার করে দেয়। এটা আমাদের কিডনী, লিভার ও অন্যান্য অঙ্গের সকল দুষিত দ্রব্য নিষ্কাশন করে দেহকে নির্মল করে থাকে।

http://www.paribarik.com/article/42

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s